Attamassuk কি এবং কেন?

বিসমিল্লাহির র্হমানীর রহীম

www.attamassuk.com এর পরিচিতি:-

ভূমিকা: সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।ছলাত ও সালাম বর্ষিত হোক মহানবী (স:)এর উপর এবং তার পরিবার পরিজন ও ছাহাবায়ে কেরামের উপর।কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে সকল প্রকার ইবাদত-আমল ও তার হিফাযত, মুসলিম ব্যাক্তির দৈনন্দিন কর্মকান্ড পরিচালনার দিক নির্দেশনা প্রদান, সামাজিক অধ:পতন ও অবক্ষয় রোধ, মাযহাবী গোড়ামী, ত্বরীকা ও সাংগঠনিক দলা-দলীর করাল গ্রাস থেকে মুসলিম সমাজকে উদ্ধার করে ঐক্যবদ্ধ করার মহr উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই ওয়েবসাইটের পদযাত্রা শুরু হল।

 

التمسك” আত্তামাস্-সুক এর অভিধানিক ও শারঈ অর্থ পরিচিতি:- শব্দটি আরবী, কুরআন-সুন্নায় বর্নিত একটি শব্দ। এর অর্থ আবদ্ধ থাকা, ধারণ করা, আঁকড়িয়ে ধরা, সুরক্ষিত থাকা, সংযুক্ত থাকা ইত্যাদি।এ শব্দ দ্বারা ইসলামী পরিভাষায় কুরআন ও নবী (স:) এর সুন্নাহ তথা হাদীছকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে আঁকড়িয়ে ধরা বুঝায়। আর এই দু’টিকেই আঁকড়িয়ে ধরতে হবে কুরআন-সুন্নার নির্দেশ মোতাবেক।

 

وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا অর্থ: আর তোমরা আল্লাহর রশিকে একতাবদ্ধভাবে ধারণ কর, বিভক্ত হইওনা ( আল-ইমরান:১০৩)। হাবলুল্লাহর প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য তাফসীর হচ্ছে: আল্লাহর কিতাব তথা আল-কুরআন, আল জামাআ’হ বা জামাআ’ত ও দ্বীন।

 

عن أبي سعيد قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((كتاب الله هو حبل الله الممدود من السماء إلى الأرض)) ذكره ابن كثير في تفسيره للآية ص: ١/٦٥، وصححه الألباني في صحيح الجامع الصغير: رقم ٤٤٧٣

 

অথr আবূ সাইদ খুদরী (রা:) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন: রসুলুল্লাহ (স:) বলেছেন আল্লাহর কিতাব হচ্ছে আসমান থেকে জমিনের দিকে সম্প্রসারিত আল্লাহর রশি (তাফসীর ইবনু কাসীর: ১ম খন্ড পৃ:৫৬)। শায়খ আলবানী (র:) একে সহীহ প্রমাণ করেছেন (ছ: আ: জা: আছছাগীর: ৪৪৭৩)। এ হাদীছের ব্যাখ্যা নবী (স:) এর অন্য হাদীছে এসেছে।

 

عن أبي شريح الخزاعي رضي الله عنه، قال خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ((أبشروا، أليس تشهدون ألا إله إلا الله وأني رسول الله ؟ قالوا: بلى، أن هذا القرآن سبب طرفه بيد الله وطرفه بأيديكم فتمسكوا به فإنكم لن تضلوا ولن تهلكوا بعده ابدأ)) رواه الطبراني في الكبير، وصححه الألباني في الترغيب والترهيب رقم: ٣٧، وفي صحيح مسلم- عن زيد بن أرقم قال: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ((آلا إني تارك فيكم الثقلين أحدهما كتاب الله هو حبل الله من اتبع كان على الهدى ومن تركه كان على الضلالة)) رواه مسلم رقم- ٦٢٢٨.

 

আবূ শুরাইহ আল-খুযাঈ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন: একদা আল্লাহর রসুল (স:) আমাদের নিকটে এসে বললেন; “তোমাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে- তোমরা কি এই মর্মে সাক্ষ্য দাওনা যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসুল?তারা বললেন হাঁ অবশ্যই, নিশ্চই। অতপর তিনি বললেন এই কুরআন খানা এমন একটি সংযোগ ব্যবস্থা(রশি) যার এক প্রান্ত আল্লাহ্র হাতে আর অপর প্রান্ত তোমাদের সকলের হাতে রয়েছে। অতএব তোমরা একে আঁকড়িয়ে ধর, তাহলে কষ্মীনকালেও পথভ্রষ্ঠ হবেনা এবং কষ্মীনকালেও ধ্বংস হবে না (ত্ববারানী আল-কাবীর গ্রন্থে) ও শায়খ আলবানী (র:) একে ছহীহ বলেছেন (আত্তারগীব ওয়াত্ব-তারহীব হা: নং: ৩৭)। সহীহ মুসলিমে অনুরুপ বর্ননা এসেছে হা: নং: ৬২২৮। ইবনু আব্বাস (রা:) বলেন, হাবলুল্লাহর অর্থ: আল্লাহর দ্বীনকে আঁকড়িয়ে ধরা । ইবনু মাসউদ(রা:) বলেন, হাবলুল্লাহর অর্থ: “আল-জামাআহ্” এক জামাআত বদ্ধ হওয়া (মুখতাছার তাফসীর বাগাবী পৃ: ১২১)।

 

” جميعا” জামীআন ও ” ولا تفرقوا” এর সঠিক অর্থ হচ্ছে: তোমরা কুরআনকে বা আল্লাহর দ্বীনকে একতাবদ্ধভাবে তথা এক জামাআ’তে আবদ্ধ থেকে আঁকড়িয়ে ধর।আর সকল মুসলিম এরুপ থাকলে ভাই ভাই থাকবে সর্ম্পক ছিন্ন হবে না এবং একে অপর থেকে বিমুখ হবে না। জামীআ’ন শব্দের মমার্থ কখনও এরুপ নয় যে: প্রত্যেক মুসলিম একাকীভাবে কুরআনকে আঁকড়িয়ে ধরবে, বরং এর নির্দেশনা হলো মুসলিম উম্মাহর সকলে একতাবদ্ধভাবে আঁকড়িয়ে ধরবে। ” ولا تفرقوا” অর্থ নিজেদের ভিতর ইখতিলাফ ও মতভেদ সৃস্টির মাধ্যমে বিভক্ত হইওনা যেমন আহলে কিতাবরা বিভক্ত হয়েছিলো। অথবা জাহেলি যুগের [লেকেরা] যেরূপ বিভক্ত ছিল। একদল অন্য দলের সাথে যুদ্ধ করত। অথবা এমন কিছু আবিস্কার করো না যেমন: সংগঠন, মায্হাব ও ত্বরীকা সমূহ। যার মাধ্যমে বিভক্তি অনিবার্য হয়ে যায় এবং অন্তরের মিল-মুহাব্বত দূরিভুত হয়ে যায়।

 

উপরোক্ত আয়াত ও তার তাফসীর এবং কিছু ছহীহ হাদীছে শুধু কিতাবুল্লাহ তথা কুরআন কে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ নবী(স:) এর হাদীছ হল কুরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও সর্ম্পুরক। আল্লাহ বলেন-

“وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ” )النحل: ٤٤(

আমরা আপনার উপর যিক্র বা কুরআন নাযিল করেছি। যাতে করে আপনি লোকদের উদ্দেশ্যে যা ‍কিছু নাযিল করা হয়েছে তা বিশদভাবে বর্ণনা করেন, আর তারা যেন চিন্তা-গবেষনা করতে সক্ষম হয় (সুরা আন্-নাহাল: ৪৪)।

 

অপর পক্ষে কিছু ছহীহ হাদীছে শুধু সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে কুরআনের উল্লেখ নেই। যেমন, নবী (স:) বলেছেন:

((عليكم بسنتي و سنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي)) رواه أصحاب السنن.তোমরা আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধর এবং আমার পরে হিদায়াত প্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে। সুনান গ্রন্থে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীছ-

নিশ্চয় এটি একটি চমrকার ও সুক্ষ বাক ভঙ্গি, যার মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহর মাঝে যে- ওতোপ্রোত, অবিচ্ছেদ্য ও অঙ্গাঙ্গী সর্ম্পক রয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে।অতএব যখন, যেখানেই দু’টির মধ্যে যে কোন একটির উল্লেখ থাকবে তখনই অপরটি অনিবার্য ভাবে উদ্দেশ্য নিতে হবে ।কেউ তা উদ্দেশ্য না নিলে তা হবে তার পথ ভ্র্রষ্টতার প্রমাণ ও সহজ নিদর্শন।নবী (স:) এর নিম্ন লিখিত হাদীছে উপরোক্ত দাবীর স্পষ্ট দলীল রয়েছে:

تركت فيكم شيئين لن تضلوا ما تمسكتم بهما كتاب الله وسنتي و لن يتفرقا حتى يردا علي الحوض-

আমি তোমাদের মাঝে দু’টি জিনিস ছেড়ে গেলাম, কশ্মিনকালেও তোমরা পথ ভ্রষ্ট হবেনা যতক্ষন বা যে পযর্ন্ত তোমরা এ দু’টিকে আঁকড়ে ধরে থাকবে।সে দু’টি হলো : (১) আল্লাহর কিতাব আল-কুরআন ও (২)আমার সুন্নাহ তথা হাদীছ । আর এ দু’টি পরকালে হাউজে কাউসারে পতিত হওয়া পর্যন্ত একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন হবেনা।ইমাম মালেক (র:) এটিকে মুরসাল সনদে ও হাকিম মুসনাদ সনদে বর্ণনা করে সহীহ বলেছেন এবং শায়খ আলবানী তার সাথে একমত পোষন করেছেন।

 

নবী (স:) তার উম্মতের দলে দলে বিভ্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন- ”বনী ইসরাঈলরা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। সব গুলো নরকের অধিবাসী হবে শুধুমাত্র একটি দল নাজাত প্রাপ্ত হবে। সেটি কোন দল? জিজ্ঞাসা করা হলে বলেছিলেন আমি এবং আমার সাহাবীগন আজ যার উপর আছি তার উপর যারা প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

 

নবী (স:) ও তার সাহাবীগন শুধুমাত্র কুরআন ও সুন্নাহর উপরই ছিলেন।এমনকি নবী (স:) এর ওফাতের পরে সাহাবীদের যুগেও তৃতীয়, চতুর্থ কিছুর জন্মই হয়নি।এমনকি পরবর্তীতে যারা ধৈর্যসহকারে শুধুমাত্র কুরআন সুন্নাহ ও [তৎ] সমর্থিত আমল-ইবাদত এবং নিয়ম নীতি আঁকড়ে ধরে রাখবে- যা নবী (সা:) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম ধরেছিলেন নিমোক্ত হাদীছে তাদের বিশেষ ফযীলত বর্নিত হয়েছে।

عن عتبة بن غزوان (رضي الله عنه)- إن رسول الله صلى الله عليه سلم قال: إن من ورائكم أيام الصبر للمتمسك فيهن يومئذ بما أنتم عليه أجر خمسين منكم قالوا: يا نبي الله أو منهم؟ قال: بل منكم وفي رواية: أجر خمسين شهيدا منكم.( أخرجه ابن نصر في السنة صفحة: 9 والطبرا ني في الكبير رقم: 289 وصححه الألباني في السلسلة الصحيحة رقم:494).

উতবা বিন গাযওয়ান (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী (স:) বলেছেন:”নিশ্চই তোমাদের পিছনে(পরে) ধৈর্যের দিন আসছে (কুরআন সুন্নার প্রতি আমলের প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টির কারণে) তোমরা যার উপর আজকে রয়েছো সেদিন যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরে থাকবে সে একাই তোমাদের পঞ্চাশ জনের ছওয়াব লাভ করবে। তারা (সাহাবারা) বললেন: নাকি তাদের পঞ্চাশ জনের ছওয়াব লাভ করবে- হে আল্লাহর নবী? তিনি(নবী স:) বললেন তোমাদের পঞ্চাশ জনের। অপর বর্ণনায় এসেছে তোমাদের পঞ্চাশ জন শহীদের ছওয়াব লাভ করবে। হাদীছটি মুহাম্মদ বিন নাছর তার আস-সুন্নাহ্ নামক গ্রন্থে ও তবারানী তার আল-কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং শায়খ আলবানী সহীহ প্রমাণ করেছেন, দেখুন সি: আস্ ছহীহাহ প্রথম খন্ড দ্বিতীয় পর্ব পৃ:৮৯২-৮৯৩, হাদীছ নং-৪৯৪।এ বিষয়ের অনুরূপ ও কাছাকাছি আরও হাদীছ বর্ণিত হয়েছে যেমন: আবু দাউদ, হাদীছ নং-৪৩৪১, তিরমিযী হাদীছ নং-৩০৬০ ও ইবনু মাজাহ হাদীছ নং-৪০১৪।

 

কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার দু’টি ‍দিক রয়েছে:-

 

প্রথমঅর্থগত: কুরআন ও সুন্নাহকে সালফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী আঁকড়ে ধরা ও আমল করা। বর্তমান মক্কা মদীনার দেশ সৌদী আরব, কুয়েত ও মধ্য প্রাচ্যের অনেক সুন্নী মুসলিম ছাড়া বিশ্বের প্রায় বাকী মুসলিমরা এ শর্ত অনুযায়ী কুরআন সুন্নাহ আমল করেনা বললেই চলে।তারা নিজেদের মনগড়া অর্থ বা আভিধানিক অর্থের ভিত্তিতে কুরআন সুন্নাহ বুঝে আমল করতে যেয়ে বিভিন্ন দলমতে এমনভাবে বিভক্ত হয়েছে যে, কখনো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কল্পনা করাও কঠিন।

দ্বিতীয়-সংখ্যাগতদিক: নবী (স:) দু’টি জিনিস আঁকড়ে ধরে রাখার কথা বলেছেন।কিন্তু উপরোল্লিখিত মুসলিম সম্প্রদায় বাদে বিশ্বের প্রায় সকল মুসলিম বিশেষ করে ভারত বর্ষের মুসলিমরা: (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান) দু’টির ভিতর সীমাবদ্ধ নেই। বরং তারা এই দু’টির সাথে আরো অনেক কিছু সংযোজন করেছে এবং ঐ দু’টির চেয়েও বেশী শক্ত করে আঁকড়ে ধরে যা নিজেরা আবিষ্কার করেছে। কেউতো তৃতীয় আরেকটি আবিষ্কার করেছে মাযহাব নামে কুরআন-সুন্নাহর অনুসরনকে ফরজ বলে না, কিন্তু মাযহাবের ক্ষেত্রে বলে মাযহাব মানা ফরজ এবং উল্টা কুরআন সুন্নাহ মানলে পথ ভ্রষ্ট হওয়ার ভয় দেখায়।মাযহাবের সূত্র ধরে চতুর্থ আরেকটি আবিষ্কার করেছে মাযহাবী ইজমা ঞ্চ মাযহাবী কিয়াস এরপর মাযহাব অনুসারীরা অন্যপক্ষকে বলে ইসলামী শরীয়তের দলিল চারটি, তোমরা কুরআন-সুন্নাহর দলীলে আছতো আমরা ইজমা কিয়াসে আছি। আবার কেউতো ছূফীবাদ বা ত্বরীকতের নামে ষষ্ঠ আরেকটি আবিস্কার করে তার আওতায় বহু ত্বরীকার জন্ম দিয়ে সেগুলো মানা ফরয বলতে ও পালন করতে ব্যস্ত। এদের নিকট কুরআন-সুন্নাহ এবং মুহাম্মাদ (স:) এর ত্বরীকাহ মানাই হলো বিভ্রান্তি। একেক ত্বরীকার সূত্র ধরে বহু গুরু(পীর-মুরশিদের)জন্ম হয়েছে তারা নিজেদের নামে বিভিন্ন আস্তানা, দরবার, খানকাহ খুলে লোকদেরকে নিজ নিজ ত্বরীকার শিক্ষা দিতে ব্যাস্ত। এরা বিভিন্ন ভাষায় পীর ধরা ফরজ বলে- যেমন: ”যার পীর নেই তার পীর শয়তান”, ”যার পীর নাই তার শীর নাই”।এসব কথার ব্যাপক প্রচারের কারণে সাধারণ মুসলিমরা পীর নির্বাচনের ক্ষেত্রে দিশে হারা। আর মুরীদ ‍শিকারের জন্য নানান প্রকার প্রচার ও কৌশল গ্রহন করে থাকে। আজ ত্বরীকা চর্চার নামে হাজারো দল ও লক্ষ লক্ষ পীর মুরশিদের ‍শিক্ষা-দীক্ষার নামে ‍বিদআ’তের পাহাড় রচিত হচ্ছে মুসলিম সমাজে। কুরআন-সুন্নাহর বিপরীতে সপ্তম আরেকটির জন্ম হয়েছে সেটি হচ্ছে স্বপ্ন স্বপ্নে প্রাপ্ত তথ্যকে কুরআন সুন্নাহর চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে আমলে নেওয়া হয় ও বাস্তবায়ন করা হয়। কোন কোন ত্বরীকা পন্থীর মূল পুঁজিই হল স্বপ্ন।

 

কুরআন সুন্নাহর সাথে সংযোজিত আরেকটি জিনিস যাকে আমরা(এ বর্ণনা ধারায়) কুরআন সুন্নাহর বিকল্প অষ্টম বিষয় বলতে পারি, তা হচ্ছে সংগঠন সর্বশেষ: বর্তমান মুসলিম সমাজ কুরআন সুন্নাহর চেয়ে শক্ত ও মজবুত করে যেটি আঁকড়ে ধরছে তা হল: সংগঠন। মুসলিম সমাজের বিভক্তির এবং সংহতি ও ভ্রাতৃত্ব নষ্টের জঘন্যতম সর্বাধুনিক হাতিয়ার হচ্ছে এই সংগঠন। বিদআ’ত যেমন ইবাদতের ছুরতে (পোষাকে) আসায় বিদআ’তীরা টের পায়না। ঠিক তেমনী সংগঠন কারীরা জামাআ’ত বদ্ধ জীবনের নামে বা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নামে ‍বিভক্তি ও অনৈক্যে পতিত হচ্ছে ও করছে তা টের পায় না।বর্তমানে সংগঠন যে বিভক্তির শক্তিশালী হাতিয়ার তা সংগঠনকারীরা বুঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। সংগঠন একেক মাযহাব ও ত্বরীকাকে শত শত দলে বিভক্ত করার হাতিয়ার। চাই তা রাজনীতি ভিত্তিক হোক অথবা ধর্ম ও দা’ওয়াহ ভিত্তিক বিভক্তি হোক ।

এ হাতিয়ারের কবল থেকে ভারত বর্ষের আহলে হাদীছ নাম গ্রহনকারী গোষ্ঠীও রেহায় পায়নি। বাংলাদেশের আহলে হাদীছ সম্প্রদায় প্রায় ১৭ দলে বিভক্ত। এ বিভক্তির ফলে আহলে হাদীছ হওয়া সত্বেও এক দলের অন্য দলের সদস্যের সাথে অন্তরমিলের পরিবর্তে অন্তর্দ্বন্দ ও পরস্পর শত্রুতা লক্ষ করা যায়। এমনকি নামে আহলে হাদীছ হওয়া সত্বেও এদের নিকট কুরআন- সুন্নাহ ও নির্ভেজাল আক্বীদার চেয়ে ‍নিজ দল বা দলীয়তার গুরুত্ব ও মর্যাদাই বেশী । এর প্রমাণ: সঠিক আক্বীদাহ সম্পন্ন কুরআন সুন্নাহর জ্ঞানে পরিপক্ক কোন আলিমকে সঠিক আক্বীদার দারস বা কুরআন সুন্নাহর উপকারী জ্ঞান প্রচারের ক্ষেত্রে সুযোগও দেয়া হয় না, যদি নিজ সংগঠনের না হয় বা তার নিকট সাংগঠনিক স্বার্থ না থাকে। ফলে যে আহলে হাদীসরা সাংগঠনিক রুপ ধারণ করেছে- যে কোন বিদআ’তী দলের মত সয়ংক্রিয়ভাবে দিনে দিনে তাদের ভিতর দলাদলী ও বিভক্তি বৃদ্ধিই পাচ্ছে। এই বিভক্তি রোধ করার কোন পদ্ধতি বা পন্থা তাদের নিকট নেই । যতদিন তারা ছলাতের ক্ষেত্রে মহানবী (সা:)এর পদ্ধতি যেভাবে তালাশ করে সেভাবে ঐক্যের ক্ষেত্রে নবী (সা:) এর পদ্ধতি তালাশ না করবে। প্রায় সাড়ে ১৩শ বছর আহলুল হাদীছের ঐক্যের ধারা ক্ষুন্ন করে সাংগঠনিক বিভিন্ন নাম সংযোজন করার মাধ্যমে অনৈক্য ও বিভক্তির কাল অধ্যায় রচনা করা হয়েছে। তাই বলতেই হবে এ আহলে হাদীস সে আহলে হাদীছ নয়। কারণ আহলে হাদীছ দল দলীয়তার নাম নয়, আহলে হাদীছ আদর্শের নাম।

আমাদেরদাওয়াতলক্ষ্যউদ্দেশ্য:

১) স্বর্ণযুগের সালাফি-সালেহীনের আদর্শ ও বুঝ অনুযায়ী কুরআন সুন্নাহর দিকে দা’ওয়াত দান।

২) আল্লাহর ইবাদত, তার জন্য দ্বীনকে খালিছ করা এবং আমল ইবাদতে ইহসানের (একনিষ্ঠতার) শিক্ষা ও দাওয়াত।

৩) মুসলিম জাতির ভিতর সr কাজ, তাকওয়া চর্চা ও কল্যাণমূলক কাজে এবং কুরআন-সুন্নাহ কে জীবনের সর্বক্ষেত্রে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে পরস্পর সাহায্য সহযোগীতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং তার ক্ষেত্র সৃষ্টি ও প্রদর্শন করা ।

৪) ইসলামী ঐতিহ্য জাগরন ও সংরক্ষনের জন্য সালফি- সালেহীনদের কিতাবাদী বঙ্গানুবাদ করে মূদ্রন ও বিতরণ করা ।

৫) মুসলিম সমাজকে সকল প্রকার ‍শিরক, বিদআত ও কুসংস্কার থেকে সতর্ক করা ও স্বচ্ছ দ্বীন আঁকড়ে ধরতে সাহায্য সহযোগীতা করা।

৬) মুসলিম সামাজের কল্যানকামী ধনবান দাতা ভাইদের অর্থ খরচের জন্য সঠিক খাত বা প্রকল্প চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়নে সহযোগীতা করা।

দাওয়াতেরমাধ্যমসমূহ:-

ইন্টারনেটেরমাধ্যমেদাওয়াত:

ময়দান ভিত্তিকদা’ওয়াত: কুরআন-হাদীছের দরস দান, জুমআ’র খুত্ববাহ প্রদান, সভা-সেমীনারে বক্তব্য প্রদান, ধর্মীয় বিষয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষনকারীদের সাথে মতবিনিময়, বাতিল পন্থিদের সাথে অনুকূল পরিবেশে বিতর্ক, বিভিন্ন শ্রেনীর ও পেশার ব্যক্তিদের সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাr, ইমাম ও দাঈদেরকে কোর্স ভিত্তিক প্রশিক্ষন ও তাদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা। মুসলিম ভাই-বোনদের টেলিকন্ফারেন্স এর মধ্যমে সরাসরি প্রশ্নোত্তোর।

উদাত্তআহবান:- উপরোক্ত সকল প্রকার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বেশ অর্থের প্রয়োজন। সকল ধনবান মুসলিম ভাই-বোনদেরকে উপরোক্ত খাতসমূহে অর্থ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহবান জানাচ্ছি। আল্লাহই তওফীকদাতা।

একাডেমিকশিক্ষা: বাস্তব সত্য কথা এই যে: শিশুরাই সমাজের ভিত্তি প্রস্তর বা ফাউন্ডেশন। তাদেরকে যদি ইলম, আমল ও দা’ওয়াত তথা সঠিক ইসলামী আক্বীদাহ ও আদর্শের উপর গড়ে তোলা যায় তাহলে পুরা সমাজ পরিবর্তন হতে বাধ্য। এই লক্ষ্যে আমরা আল্লাহর আশেষ মেহেরবানীতে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে আসছি।

() ইসলামী শিক্ষা সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট- যা রাজধারী ঢাকার উত্তরখান থানার অন্তর্গত চাঁনপাড়া কাজী বাড়ীতে অবস্থিত।

() অপরটি হচ্ছে আল-ফুরক্বান ইসলামী সেন্টার- যা উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও জেলার রানীসংকৈল পৌরসভায় অবস্থিত।

সাহায্যেরআহবান: বাংলাদেশে সহীহ ইসলামী ‍শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খুবই অভাব। উপরোক্ত প্রতিষ্ঠান দু’টিতে ছহীহ ইসলামী শিক্ষা দেয়া হয়।কিন্তু অর্থাভাবে প্রতিষ্ঠান দু’টি পরিচালনায় নানান জটিলতার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। পরিকল্পনা থাকা সত্তেও সামনে অগ্রসর হতে পারছেনা।ক্লাসরুম ও আবাসিক বাসস্থানের অভাবে দশম শ্রেনীর পর আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) স্তর চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।অতএব প্রতিষ্ঠান দু’টির সার্বিক উন্নতি কল্পে ধনবান মুসলিম ভাই-বোনদেরকে অর্থ সাহায্যের উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

৪। বিভিন্ন ছহীহ ইসলামী গ্রস্থ, লিফলেট, হ্যান্ডবিল মুদ্রন ও বিতরন।বিশেষভাবে শায়খ আকরামুজ্জামান মাদানীর লিখিত অনুদিত ও সম্পদনাকৃত গ্রন্থাদী।তার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও অনুষ্ঠানে প্রদত্ত, জুমআ’র খুত্ববাহ প্রচার, মাযহাবী, ত্বরীকাহ ও সংগঠনিক দলাদলী থেকে মুক্ত আরো অন্যান্য দেশী-বিদেশী নির্ভরযোগ্য আলিমগনের লিখনী ও বক্তব্য প্রচার ও প্রসার।

 

৫। প্রস্তাবিতইলমীগবেষনাদাওয়াহইনস্টিটিউটপ্রতিষ্ঠা: মুসলিম সমাজের দাঈগন দাওয়াতের পদ্ধতি ও প্রতিনিয়ত উদ্ভুভ ধর্মীয় সমস্যায় গবেষনা সমৃদ্ধ সমাধানে পৌছার কি পন্থা শরীয়তে আছে এ বিষয়ে প্রশিক্ষন না থাকার দরুন অনেক জটিল সমস্যার সম্মুখিন হন।তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষন দেয়া প্রয়োজন।এদিকে বিভিন্ন বাত্বিল পন্থীদের পক্ষ থেকে অপপ্রচার ও অপপ্রয়াস এবং চ্যালেঞ্জের মুকাবিলার জন্য গভীর জ্ঞানের গবেষকদের নিয়োগ দান করা জরুরি। তাদেরকে উপযুক্ত সম্মানি এবং বেতন ভাতা প্রদান করতে হবে।এসবের জন্য দা’ওয়াহ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও তার আনুসঙ্গিক প্রয়োজনীয় উপায় উপকরণ ক্রয়ের জন্য বিরাট বাজেটের দরকার।তাই সর্বোচ্চ অর্থ সাহায্যের উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি

আমাদেরদাওয়াতেরবৈশিষ্ট:

১) সালাফি-ছালেহীনদের বুঝ অনুযায়ী কুরাআন-সুন্নাহ অবলম্বনে দা’ওয়াত দিয়ে আল্লাহর ইবাদত ও নবী (স:) এর আদর্শের ভিত্তিতে শতধা বিভক্ত মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ তথা এক জামাআত বদ্ধ করা।

২) মাযহাবী গোড়ামী, ছূফীবাদী তরীকার ছড়াছড়ি, সাংগঠনিক দলাদলী ও অন্ধ ব্যক্তি তাকলীদ বন্ধের জন্য ইলমী পদক্ষেপ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করা।

৩) মুসলিম ব্যক্তিকে বর্তমান বিভিন্ন নামে আত্নপ্রকাশকারী দলে যোগ না দিতে উদ্বুদ্ধ করা এবং ঐক্যের স্বার্থে যথাসম্ভব দল গুলো ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করা। কারণ কখনই শতদলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়।এক দলে ঐক্যবদ্ধ হতে হলে ৯৯টি দল বিলুপ্ত করতে হবে এর বিকল্প কোন পথ নেই।আলহামদুলিল্লাহ আমাদের দা’ওয়াতে ইতিমধ্যে একটি দল বা সংগঠন ঐক্যের সার্থে দল ভেঙ্গে দিয়েছে।

 

উপসংহার:- মুসলিম সমাজের ঐক্যের ক্ষেত্রে সাব©জনিন ও যুগান্তকারী ইলমী পদক্ষেপ বাংলার মাটিতে এটাই প্রথম এজন্য যে কোন ঐক্যপ্রিয় ভাই-বোন এর সদস্য ও সহযোগী হতে পারেন।আল্লাহ্ আমাদের ও আপনাদের সকলকে একতাবদ্ধভাবে তাঁর দ্বীনের খিদমত করার তাওফীক দান করুন।

 

 

 

 

 

 

 

 

ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট

  • class_room
  • class_room
  • class_room
  • class_room
  • class_room
  • class_room
  • class_room

নির্ভেজাল ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি প্রচলিত জেনারেল শিক্ষাক্রমের আওতায় ডিগ্রী লাভের ক্ষেত্রে সব প্রতিদন্দিতাপূর্ণ এবং যুগের চাহিদা মাফিক সম্পূর্ণ শির্ক ও আধুনিক শিক্ষাদানের অঙ্গিকার নিয়ে ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইনষ্টিটিউট এর সূচনা হয়েছে।

বিস্তারিত