• প্রশ্নঃ হজ্জ উমরাহ বিভিন্ন পর্যায়ে হাজীগণ যে সব ভুলভ্রান্তি করে থাকেন তার কি একটি তালিকা দেয়া সম্ভব?

    উত্তরঃ হ্যাঁ, দেয়া সম্ভব। অত্র গ্রন্থে সুবিন্যস্তভাবে এ ধরণের ভুল-ভ্রান্তির কিছু তালিকা দেয়া হয়েছে। দেখুন পৃষ্ঠা নং ২০০।

  • প্রশ্নঃ নির্বিঘœ ও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে হজ্জ ও উমরাহর আমল বা কাজগুলো করার জন্য মহিলারা মাসিক স্রাব বন্ধ রাখার জন্য আধুনিক যুগে আবিস্কৃত বিভিন্ন প্রক্রিয়ার যে কোনটি কি গ্রহণ করতে পারবেন?

    উত্তরঃ হ্যাঁ, পারবেন। যদি মহিলার শারিরীক কোন ক্ষতি না হয়। দেখুন ফাতওয়া ইবনু উছাইমীন ২২ খণ্ড পৃষ্ঠা নং ৩৯৪, ফাতওয়া নং ৯১৬।

  • প্রশ্নঃ মদীনার মসজিদে নব্বীতে ৮ দিন ছলাত পড়া কি শর্ত?

    উত্তরঃ মসজিদে নব্বীতে ৮ দিন তথা ৪০ ওয়াক্ত ওয়াক্ত ছলাত পড়া শর্ত নয়। কিছু মুর্খ সমাজ এটা শর্ত মনে করে থাকে। হ্যাঁ, তবে একটি যঈফ হাদীছে মসজিদে নব্বীতে ৪০ ওয়াক্ত ছলাত পড়লে দুটি মুক্তি মিলার কথা উল্লেখ আছে। একটি মুক্তি নরকের আযাব থেকে ও অপরটি হচ্ছে মুনাফিকী থেকে। এ হাদীছটি আহমাদ ও ত্ববারণীতে রয়েছে। এটি অত্যন্ত দুর্বল হাদীছ যা পরিত্যাজ্য। দেখুন সিলসিলা যঈফাহ হাদীছ নং ৩৬৪।
    তবে সাধারণভাবে যে কোন মসজিদে জামাআত সহকারে তাকবীরে উলার সাথে ছলাত আদায় করার ফযীলত হিসাবে উক্ত দু’প্রকার মুক্তির কথা যে হাদীছে আছে (তিরমিযী হাদীছ নং ২৪১ ও সিলসিলায়ে সহীহাহ ২৬৫২) সেটা হাসান, গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য। (দেখুন তিরমিযী হাদীছ নং ২৪১, সিলসিলায়ে ছহীহাহ্ হাদীছ নং ২৬৫২)।
    তবে এটাও জানতে হবে যে, মসজিদে নব্বীতে পুরো আট দিন ছলাত পড়েও মসজিদে হারামের একদিনের সমতুল্য হবে না।

  • প্রশ্নঃ মদীনা সফরের বিধান ও উদ্দেশ্য কি?

    উত্তরঃ মদীনা সফর মুস্তাহাব ও সুন্নাহ। আর সফরের উদ্দেশ্য হতে হবে মসজিদে নব্বীতে ছলাত আদায় করা। যে ব্যক্তি মসজিদে নব্বীতে একটি সলাত (ফরয বা নফল) আদায় করে তার আমল নামায় এক হাজার ছলাতের ছওয়াব লেখা হয়। ছলাত আদায় করার পর নবী এর ক্ববর যিয়ারত করা সুন্নাত। এমনকি তাঁর পার্শ্বে সমাহিত দুই খলীফার ক্ববর ও বাক্বীউল গারক্বাদে সমাহিত সাহাবী, তাবেঈ ও সাধারণ মুসলিম নর-নারীদের ক্ববর যিয়ারত করে তাদেরকে সালাম দিবেন ও দু’আ করবেন। খবরদার! তাদের নিকট নিজের জন্য কোন কিছু প্রার্থনা করবেন না। এমনকি নবী এর নিকট তাঁর শাফাআতও নয়। সকল প্রার্থনা কেবল আল্লাহর নিকট করবেন। এরপর ক্বুবা মসজিদে ছলাত পড়ার জন্য যাবেন। ইচ্ছা করলে ক্বিবলাতাইন মসজিদেও যেতে পারেন। ওহুদেও পূর্বোক্ত নিয়মে ক্ববর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে যেতে পারেন।

  • প্রশ্নঃ মদীনায় মসজিদে নব্বীর পার্শ্বস্থ কবরস্থানকে জান্নাতুল বাক্বী কেন বলা হয়, তা বলা কি ঠিক?

    উত্তরঃ এই ক্ববরস্তানকে ক্ববর পুজারীরা ও মুর্খরাই কেবল অজ্ঞতার কারণে এ নামে নামকরণ করে থাকে। কোন ক্ববরস্তানকে জান্নাত বলা ঠিক নয়। তাইতো তাওহীদপন্থীরা ঐ দেশের লোকেরা কেউই জান্নাতুল বাক্বী বলে না। তারা বলে মাক্ববারাতুল বাক্বী। (আল-বাক্বী ক্ববরস্তান) বা বাক্বীউল গারক্বাদ।

  • প্রশ্নঃ রওযাহ কাকে বলা হয়? নবী এর ক্ববরকে কি রওযাহ বলা যায়?

    উত্তরঃ নবী এর বাড়ী ও তার মসজিদের মিম্বারের মধ্যব0র্তী স্থানকে রওযাহ বলা হয়। নবী  এর হাদীছের ভাষায় “রওযাতুন মিন রিয়াযিল জান্নাহ” অর্থ জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান” বলা হয়।
    -ছহীহুল বুখারী।
    সুতরাং নবী এর ক্ববরকে রওযাহ বলা মারাত্মক ভুল ও মুর্খতা।

  • প্রশ্নঃ মদীনায় কি উমরাহ বা হজ্জের কোন অংশ রয়েছে?

    উত্তরঃ না, মদীনায় উমরাহ বা হজ্জের কোন অংশই নেই। কেউ যদি উমরাহ বা হজ্জ পালন শেষে মদীনায় যেয়ে বাড়ী ফিরে আসে তবে হজ্জ উমরাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি বা ত্রটি হবে না।

  • প্রশ্নঃ যদি কোন ব্যক্তি হজ্জ, উমরাহর সুযোগে রাসূল এর ক্ববর যিয়ারতকে মুখ্য উদ্দেশ্য বানায় তাহলে তার বিধান কি?

    উত্তরঃ কুরআন সুন্নাহর দলীল অনুযায়ী তার হজ্জ উমরাহ তো হবেই না তার পূরা সফর পাপের সফরে পরিণত হবে।

  • প্রশ্নঃ হজ্জ উমরাহর নিয়্যতকারীদের জন্য ইহরাম বিহীন অবস্থায় নিজেদের মীক্বাত অতিক্রম করে অন্য কোন স্থানে যাওয়া ও সেখানে অবস্থান করে সেখানকার মীক্বাত থেকে ইহরাম বেঁধে মক্কায় যাওয়া বৈধ কি?

    উত্তরঃ হজ্জ বা উমরাহর নিয়্যতে মক্কার উদ্দেশ্যে সফরকারী ব্যক্তির জন্য ইহরাম বিহীন অবস্থায় নিজের মীক্বাত অতিক্রম করে অন্য স্থানে যাওয়া বৈধ নয়। এমনকি মদীনায়ও নয়। হ্যাঁ, তবে যদি মদীনা যিয়ারতের উদ্দেশ্যেই বাড়ী থেকে সফর করা শুরু করে থাকে তবে ইহরাম বিহীন অবস্থায় মক্কায় যাবেন এবং সেখানে যে কয়দিন অবস্থান করার ইচ্ছা অবস্থান করে উমরাহ বা হজ্জ করতে চাইলে মদীনার মীক্বাত থেকে ইহরাম বেঁধে মক্কায় যাবেন এবং হজ্জ ও উমরাহ পালন করবেন। কিন্তু যদি হজ্জ উমরাহ পালনের নিয়্যত করেন এবং সে উদ্দেশ্যেই টাকা জমা করেন এবং বিদায়ের সময় সবাইকে বলেন যে, আমি হজ্জে যাচ্ছি তাহলে বিনা ইহরামে মীক্বাত অতিক্রম করা যাবে না। যদি ইহরাম বিহীন অবস্থায় কোথাও যান তবে দম দিতে হবে। অথবা কোথাও গেলে এমনকি মদীনা গেলেও ইমরাহ সহকারেই যেতে হবে। এবং ইহরাম সহকারেই থাকতে হবে। এ উত্তরটির জন্য দেখুন মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছাইমীন (রহ.) এর মাজমুআ ফাতওয়া ২১ খণ্ড ফাতাওয়া নং ৩৫৮, ৩৭০, ৩৭৩ ও ৪০৯।

  • প্রশ্নঃ যে মহিলার সম্পদ আছে ও মাহরাম আছে কিন্তু স্বামী তাকে হজ্জের জন্য অনুমতি না দেয় তাহলে তার করণীয় কি?

    উত্তরঃ এমতাবস্থায় স্বামীর উচিত স্ত্রীকে হজ্জের যাবার অনুমতি দেয়া। বাধা দিলে সে অবশ্যই গোনাহগার হবে। আর একান্তই যদি সে বাধা দেয় তাহলে তার বাধা উপেক্ষা করেই হজ্জে যাবে। কারণ সামর্থবান হলে আল্লাহর জন্য হজ্জ পালন করা ফরয। -সূরা আলে ইমরান- ৯৭।
    সুতরাং স্বামীর আনুগত্যের উপর আল্লাহর আনুগত্য অগ্রাধিকার যোগ্য। এবং রাসূলুল্লাহ বলেছেন- আল্লাহর অবাধ্যতা হচ্ছে এমন বিষয়ে সৃষ্টির কারোরই আনুগত্য করা যাবে না।
    – ছহীহ বুখারী। ফাতওয়া ইবনু উছাইমীন ২১খণ্ড পৃষ্ঠা ১৯৪ ফাতওয়া নং ২৪৬।

ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট

  • class_room
  • class_room
  • class_room
  • class_room
  • class_room
  • class_room
  • class_room

নির্ভেজাল ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি প্রচলিত জেনারেল শিক্ষাক্রমের আওতায় ডিগ্রী লাভের ক্ষেত্রে সব প্রতিদন্দিতাপূর্ণ এবং যুগের চাহিদা মাফিক সম্পূর্ণ শির্ক ও আধুনিক শিক্ষাদানের অঙ্গিকার নিয়ে ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইনষ্টিটিউট এর সূচনা হয়েছে।

বিস্তারিত